হাজত ভেঙে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে যৌথ অভিযানে নারী আসামি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:শরীফুল ইসলাম

মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের গ্রিল কেটে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বেশিক্ষণ আত্মগোপনে থাকতে পারেননি হাসিনা বেগম (৩৬)। পালানোর প্রায় দেড় দিন পর ঢাকার কেরানীগঞ্জে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সোয়া ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর ৪ নম্বর গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। হাসিনা বেগম মাদারীপুর সদর উপজেলার কালাইমারা গ্রামের মো. হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং আল-আমিনের স্ত্রী।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৯ জুলাই অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় হাসিনাসহ তিনজনকে আটক করে জেলার ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার মূল ভবন ভেঙে ফেলার কারণে বর্তমানে অস্থায়ী ভবনে থানার কার্যক্রম চলছে। সেখানে স্থায়ী হাজতখানা না থাকায় নারী আসামিদের নিচতলার একটি কক্ষে নারী পুলিশের পাহারায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১০ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসিনা বেগম বারান্দার তিনটি স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ খুলে গ্রিলের ফাঁক তৈরি করে কৌশলে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতারে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২২৪ ও ৪২৭ ধারায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে এসআই বাপ্পি সরদার, এসআই এসএম শাহরিয়ার, এসআই সাকিব সালমান, এসআই রমজান আলী সজল, নারী পুলিশ সদস্য এবং র‌্যাব-৮-এর একটি দল অংশ নেয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও সোর্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা কেরানীগঞ্জে তার অবস্থান নিশ্চিত করে।

শেষ পর্যন্ত শনিবার ভোরে যৌথ অভিযানে পলাতক হাসিনা বেগমকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনগত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *