আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হানিমুনে গিয়ে পিরিয়ড শুরু হওয়ায় ‘মুড নষ্ট’ হয়ে গেছে—এমন অভিযোগ তুলে স্ত্রীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরখপুরের ওই নারী অভিযোগ করেছেন, হানিমুনে থাকা অবস্থায় স্বামী তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধেরও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট এফআইআর করা হয়। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, মামলা করতে স্থানীয় থানায় একাধিকবার গেলেও শুরুতে তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পরে গোরখপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ড. কৌশতুভের হস্তক্ষেপে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, ২০২৩ সালের ৩০ মে দিল্লির বাসিন্দা নিখিল মিশ্রের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২ জুন তিনি স্বামীর বাড়িতে যান। এরপর ৪ জুলাই স্বামীকে নিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে হানিমুনে যান তারা।
ওই নারী অভিযোগ করেন, হানিমুনে যাওয়ার পর তার পিরিয়ড শুরু হয়। এ সময় তীব্র পেটব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে কেন তিনি আগে থেকে পিরিয়ডের কথা জানাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। এরপর পিরিয়ডের কারণে হানিমুনের ‘মুড নষ্ট’ হয়েছে বলে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তার দাবি, স্বামী তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধের চেষ্টাও করেন। তার চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হানিমুন শেষে দিল্লিতে ফিরে ওই নারী শাশুড়ি ও ননদের কাছে বিষয়টি জানান। কিন্তু তারা তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো মানসিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে বিয়ের আগে ও পরে যৌতুকের জন্যও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তার দাবি, বিয়ের সময় তার পরিবার প্রায় ২০ লাখ রুপি নগদ, একটি গাড়ি এবং প্রায় ৪০ লাখ রুপির অন্যান্য সামগ্রী দেয়। তবে এসব দেওয়ার পরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে অপমান ও কথা শোনাতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তার স্বামী তার বাবাকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। স্বামী আর তার সঙ্গে সংসার করতে চান না বলেও জানানো হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই, অর্থাৎ বিয়ের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই নারী।
সমস্যা সমাধানের জন্য তার বাবা দিল্লিতে গিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে সেখানেও তাকে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ। বিয়ের সময় দেওয়া নগদ টাকা, গাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রীও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই নারী। পরবর্তী সময়ে তার স্বামী তাকে হুমকিমূলক বার্তা পাঠাতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বামী নিখিল মিশ্রের পাশাপাশি তার মা ও বোনকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের জন্য হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিখিল মিশ্র বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।