আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলের নাগরিকেরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং দেশটির ডানপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন ভোটাররা।
‘আরব নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মেয়াদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এবারের নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ও ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে মধ্যপন্থী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যবধান কম দেখা গেছে।
২০২৩ সালের হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে লড়াই
জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তার জোটে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী—উভয় ধারার সমর্থকেরা রয়েছেন।
তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের পর জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুদ্ধকালীন নেতৃত্বকে সামনে আনছেন নেতানিয়াহু
নির্বাচনী প্রচারে নিজের যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে ট্রাম্পের সমর্থনও তার প্রচারের অন্যতম বিষয়।
রোববার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, জনগণ যাকেই নেতা হিসেবে বেছে নিক, ট্রাম্প তার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সরকার গঠনে জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তারা পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। জনমত জরিপে বেন-গভিরের দল ‘ইহুদি শক্তি’র সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কেউই সরকার গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থানে নেই। নির্বাচনে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রশ্নেই নয়, বরং গাজা যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।