স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবানের ছাগলখাইয়া মৌজায় দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো পৈতৃক বসতভিটায় সম্পূর্ণ আইন মোতাবেক নতুন পাকা ঘর নির্মাণকাজে বাধা প্রদান এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে চরম হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মা সাহারা খাতুন ও তার ছেলে মোঃ শাহজাহানের দাবি, মাটির সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা), পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন (প্ল্যান পাস) এবং পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারের নকশা (ড্রইং)সহ যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও প্রতিপক্ষরা হিংসাত্মক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি বানোয়াট মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি করছে।
স্থাবর সম্পত্তি ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ছাগলখাইয়া মৌজার ১০০ নম্বর খতিয়ানের ১৫১৫ নম্বর দাগে মোট ২১ শতক জমি থাকলেও ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সেখানে মাত্র ১৬ শতক জায়গা নিজেদের শান্তিময় দখলে রেখে পুরনো ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি সেই জরাজীর্ণ পুরনো ঘরটি ভেঙে দেশের প্রচলিত আইন মেনে একটি স্থায়ী পাকা গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নেন সাহারা খাতুনের ছেলে মোঃ শাহজাহান।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সাহারা খাতুন ও তার ছেলে শাহজাহান দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ভিটেমাটিতে বসবাস করে আসছেন, এটি তাদের পুরনো চেনা বসতভিটা। তাদের আগের ঘরটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার কারণে তারা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। প্রতিপক্ষরা হিংসাত্মকভাবে ও তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগ ও বানোয়াট মামলা দিয়েছে। তারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এমন নিরীহ পরিবারকে হয়রানি করার তীব্র নিন্দা জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানান, একটি নিরাপদ ও মজবুত ভবন নির্মাণের জন্য তারা প্রথমে মাটির সয়েল টেস্ট বা মাটি পরীক্ষা করান। এরপর ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুত করে পৌরসভা থেকে যথাযথ আইনি অনুমোদনও গ্রহণ করেন। পাকা ঘর নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে তারা কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রয়োজনীয় ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী এনে প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সরকারি সকল নিয়ম মানার পরও ঘর তৈরির কাজ শুরু করতেই প্রথম পক্ষ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট ঘটনার অবতারণা করে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয়।
ভুক্তভোগী সাহারা খাতুনের ছেলে মোঃ শাহজাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমি আমাদের ৩০ বছরের চেনা ও দখলি জায়গা। ১৫১৫ নম্বর খতিয়ানে আমাদের ২১ শতক জমি থাকলেও আমরা বাস্তবে মাত্র ১৬ শতক জায়গায় দখলে আছি, অর্থাৎ কারো এক চুল জমিও আমরা বেশি নিইনি। আমরা সম্পূর্ণ আইন মেনে মাটির সয়েল টেস্ট করিয়ে, পৌরসভা থেকে প্ল্যান পাস করিয়ে ঘর তুলছি। অথচ আমাদের ঘর তোলায় বাধা দিতে এবং আমাদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করতে এই মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।”
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ বিজ্ঞ আদালতের নিকট লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। আদালতে দেওয়া অঙ্গীকারে তারা জানিয়েছেন, জমিটি যদি আইনগতভাবে প্রথম পক্ষের প্রমাণিত হয়, তবে তারা নিজ খরচে নির্মিত ঘর ভেঙে ফেলবেন। মাটির সয়েল টেস্টের রিপোর্ট, পৌরসভার অনুমোদন এবং এলাকার মানুষের সাক্ষ্যের মতো সমস্ত বৈধ ভিত্তি থাকার পরও যেন তারা নিজেদের ১৬ শতক জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে গৃহ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য মা সাহারা খাতুন ও ছেলে শাহজাহান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করছেন।