মোঃআনজার শাহ
নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) কার্যক্রম পরিচালিত হবে ৩৪১ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। প্রতিবেদককে এই তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত প্রথম চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।
তিনি জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে কুমিল্লায় ৩৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক মেগাসিটি গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
সিটি কর্পোরেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত পরিধি:
উদবাতুল বারী আবু বলেন, কুউকের অধিক্ষেত্র শুধু কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রস্তাবিত ৩৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, আদর্শ সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ উপজেলা এবং বুড়িচং উপজেলার সমৃদ্ধ জনপদ ময়নামতি ও মোকাম ইউনিয়নের অংশ এবং বাগমারা এলাকা। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।
শূন্য থেকে যাত্রা শুরু:
গত ১০ এপ্রিল ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর ১১ জুন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান উদবাতুল বারী আবু। দায়িত্ব নিয়েই শূন্য থেকে এক চ্যালেঞ্জিং যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। কুমিল্লা মহানগরীর জিরো পয়েন্টে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ভবনে স্থাপিত হয়েছে কুউকের কার্যালয়, যেখানে বর্তমানে কর্মব্যস্ত দিন কাটছে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম চেয়ারম্যানের।
ডিজিটাল সেবা থেকে রিং রোড সামগ্রিক নগর পরিকল্পনা
তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এনে দ্রুতই চালু করা হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)। পাশাপাশি রিং রোড নির্মাণ, ভূমি পুনর্বিন্যাস, ভূমি পুনঃউন্নয়ন, জলাধার সংরক্ষণ, পর্যটন জোন, আইটি পার্ক এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুমিল্লাকে দেশের অন্যতম পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন:
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উদবাতুল বারী আবু বলেন, কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা অবশেষে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধ্যাদেশ নয়, পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কুউক একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
সামনে চ্যালেঞ্জ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা:
বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ করেন উদবাতুল বারী আবু। তিনি বলেন, একটি আধুনিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এই যাত্রায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাত ধরে গোটা অঞ্চলের পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর।