স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অধীন ঢাকা রেশনিং অফিসে দীর্ঘদিন ধরে হিসাবরক্ষক ও তদারককারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমে তদারকির নামে অর্থ আদায় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় সাইদুল ইসলামের জমি ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস এবং তার মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সাইদুল ইসলাম ওএমএসের তদারককারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কোনো ডিলারের দোকানে সরেজমিনে না গিয়েই বিক্রির কার্যক্রম সঠিকভাবে শুরু ও শেষ হয়েছে বলে প্রতিবেদন বা হিসাব লিখে দেন। এতে ওএমএস কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও সরকারি খাদ্যপণ্য বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে ওএমএসের তদারককারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা ডিলার মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও ডিলার তানিয়া সুলতানাসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতি ডিলারের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এভাবে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ডি-ওয়ান এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাইদুল ইসলাম প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার নাম ব্যবহার করে ঢাকা রেশনিং অফিসে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
সম্পদের বিষয়ে যা বললেন সাইদুল ইসলাম
অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার যা কিছু আছে, সবই সরকার জানে। আপনাদের জানার দরকার নাই।”
দুদকে অভিযোগের দাবি
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার মাতুয়াইল এলাকার এক ভুক্তভোগী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগটি কবে করা হয়েছে, এর নম্বর এবং দুদকের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।