অষ্টগ্রামে বাড়ি ছেড়ে অনিশ্চিত পথে মা-সন্তান, অভিযোগের তীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ক্রয়কৃত বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণে বাধা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বাড়িঘর ছেড়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন এক মা ও তার তিন ছেলে। এ ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠেছে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়া ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী পুতুল বেগম (৪৮), স্বামী হামিদ মিয়া। তাদের তিন ছেলে রনি মিয়া, জনি মিয়া ও রকি মিয়া। পরিবারটির বাড়ি অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে।

পরিবারটির দাবি, ২০১৫ সালে তারা অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকায় দুইতলা ভবনসহ ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

পুতুল বেগমের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় তারা পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু এতে বাধা দেন সজু মিয়া ও তার ভাইয়েরা।

পুতুল বেগমের ছেলে জনি মিয়ার অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলেও সজু মিয়া ও তার ভাইয়েরা বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুতুল বেগম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১ জুন ২০২৬ অষ্টগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে সজু মিয়া ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় তারা ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তারা ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর পাশে ডিসি রোড এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অষ্টগ্রাম থানার এসআই রিপন পাল জানান, “ওসি স্যার বর্তমানে ছুটিতে আছেন। স্যার আসলে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *