অস্থিরতার মধ্যেই কাশ্মীরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ৩২ ভোটে জয়ী নাজীব নাকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যেই পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে (এজেকে) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মুজাফফরাবাদের আইনসভা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী ড. নাজীব নাকী খান ৩২ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চৌধুরী লতিফ আকবর পেয়েছেন ১৩ ভোট।

স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়। এজেকে সংবিধান অনুযায়ী, ৫৩ সদস্যের আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৭ ভোট।

নাজীব নাকী খান সুধানোতি জেলার পালান্দ্রি এলাকার সাবেক আইনপ্রণেতা এবং একাধিকবার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভায় দায়িত্বও পালন করেছেন। অন্যদিকে পিপিপির প্রার্থী চৌধুরী লতিফ আকবর এজেকে আইনসভার সাবেক স্পিকার।

প্রেসিডেন্টের পদটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শূন্য ছিল। ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। পরে তৎকালীন আইনসভার স্পিকার লতিফ আকবর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২৫ আগস্ট নতুন স্পিকার হিসেবে চৌধুরী তারিক ফারুক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

এজেকে অন্তর্বর্তী সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হওয়ায় প্রায় আট মাস পদটি শূন্য ছিল। এ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে এজেকে হাইকোর্টে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদনও করা হয়েছিল।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও এজেকে আইনসভার সাতটি আসন শূন্য রয়েছে। সাম্প্রতিক আইনসভা নির্বাচনে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। এসব আসনে এখনো নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএমএল-এন ও তাদের মিত্রদের দখলে থাকা ৩২টি আসনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাজীব নাকীর পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭ ভোট প্রয়োজন হওয়ায় সাতটি আসন শূন্য থাকা নির্বাচনকে আইনগতভাবে বাধাগ্রস্ত করেনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এজেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সমস্যা, শাসনব্যবস্থা এবং আইনসভায় কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। এর প্রভাব আইনসভা নির্বাচনেও পড়ে এবং কয়েকটি আসনে ভোট স্থগিত রাখতে হয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে নাজীব নাকীর জয় দিয়ে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এজেকের সাংবিধানিক পদটি পূরণ হলো। তবে পুনচ ও সুধানোতির সাতটি আসনে স্থগিত থাকা আইনসভা নির্বাচন এখনো বাকি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *