আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ হুমকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধসহ ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
ম্যাক্রোঁ বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি আরও তীব্র হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান দুর্বল করা। তবে তিনি জানান, ফ্রান্স এ ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
‘হাইব্রিড হামলা’ বলতে সামরিক আক্রমণের পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন ধরনের গোপন বা পরোক্ষ কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় সরকারকে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ড্রোন ও সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশও রাশিয়ার সম্ভাব্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো হামলাকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে রাশিয়া ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে ইউরোপে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনে সেনা পাঠালে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জি-৭ দেশগুলোর একটি বৈঠক আহ্বানের কথা জানিয়েছেন। সেখানে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে গ্যাসের মজুত ও কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।