ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল প্রসিকিউশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবিতে আপিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়।

এদিন দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিলটি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইনুকে যে ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন, তা অপরাধের মাত্রার তুলনায় অপর্যাপ্ত মনে করেই সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আপিলে মোট ১১টি গ্রাউন্ড তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগে ইনু খালাস পেয়েছেন, সেসব অভিযোগেও সাজা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, কোনো অপরাধের সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপরাধের ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কতজন মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন এবং অপরাধের সামগ্রিক প্রভাব কী ছিল—এসব বিষয়ও সাজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তামিমের ভাষ্য, ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে অপরাধের বিভিন্ন দিক ও গুরুতরতার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। কিন্তু সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ১০ বছরের কারাদণ্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করেছে প্রসিকিউশন। এ কারণেই সাজা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

ইনুর নেতৃত্ব ও নির্দেশনার বিষয়টি তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার নীতির আলোকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একজন সামরিক কমান্ডারের নির্দেশের ক্ষেত্রে অধীনস্থরা তা পালন করবে কি না, সেই বিষয়টি থাকতে পারে। কিন্তু একজন বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার নির্দেশের পাশাপাশি তার বক্তব্য ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ইনুর ক্ষেত্রে তার নির্দেশনা ও নেতৃত্বের ভূমিকা এভাবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আপিলে যুক্তি তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে এখন সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *