স্টাফ রিপোর্টার:-
দীর্ঘদিন ধরে বরুড়ার অলিগলিতে মাদকের বিষ ছড়িয়ে বেড়ানো কথিত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি মো. কামাল হোসেন (৩৫) অবশেষে আইনের হাতে ধরা পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ শে এপ্রিল) রাতে বরুড়া থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে তাঁকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। থানার রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, এটি তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত তৃতীয় মামলা।
🕗 রাতের আঁধারে যেভাবে ধরা পড়লেন কামালঃ
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে বরুড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনসার এলাকার পুরাতন খাদ্য গুদামের সামনের রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে কামাল হোসেন মাদকসহ রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ তাঁকে ঘেরাও করে হাতেনাতে আটক করে এবং তাঁর কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে জব্দ করে।
👮 যাঁদের নেতৃত্বে পরিচালিত হলো অভিযানঃ
অভিযানটি পরিচালিত হয় সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হকের সরাসরি নেতৃত্বে। মাঠ পর্যায়ে এসআই (নিরস্ত্র) তাজুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে কামাল হোসেনকে কব্জায় আনেন।
🧾 গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয়:
গ্রেপ্তার কামাল হোসেন বরুড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনসার (বড় বাড়ি) এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়ে আসছিলেন। তাঁর কারবারের বিষয়ে পুলিশের কাছে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল।
⚖️ তৃতীয়বারও মাদক মামলা আইনি পদক্ষেপঃ
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারায় বরুড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় জানা গেছে, এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। একই অপরাধে বারবার গ্রেপ্তার হয়েও মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখার ঘটনা এলাকাবাসীর মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
🗣️ স্বস্তির নিঃশ্বাস এলাকাবাসীর:
এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তির আলো দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান, কামাল হোসেনের মাদক কারবারের কারণে জিনসার এলাকার বহু পরিবার সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করতেন। তাঁর গ্রেপ্তারকে তাঁরা একটি সাহসী ও সময়োচিত পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।