ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভ্যান্সের শর্ত, কমাতে হবে সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে হবে।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ভ্যান্স। খবর আল আরাবিয়্যার।

ভ্যান্স বলেন, শুধু ভবিষ্যতে পারমাণবিক কার্যক্রম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না; চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। তার মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে চায়, তাহলে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতায়ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র না চান, তবে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কেন?’ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করাকে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভ্যান্স আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশয় প্রকাশ করে আসা ভ্যান্স ইরান সংঘাতের সমাধানে আলোচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। গত জুনে তিনি একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যা পরে ভেস্তে যায়।

এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের জন্য এটি রাজনৈতিক চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার আলাস্কায় নির্বাচনি প্রচার শেষে ভ্যান্স বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমাতে হবে। শুধু ভবিষ্যতে কার্যক্রম কমানোর প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক কার্যক্রম আরও জোরদার হতে পারে।

ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এর জন্য ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ছাড় বা তার প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু কথার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *