স্বাধীন সংবাদ আন্তর্জাতিক:
লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইসরাইল সীমান্ত পর্যন্ত দেশটির সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, বৈঠকে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা এবং গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবাননের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
একই সফরে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকালের সঙ্গেও বৈঠক করেন। লেবাননের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্তে চলমান উত্তেজনা এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত নতুন চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব আরও জোরদার করবে লেবাননের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দায়িত্বও সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং দিক হলো হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি, যা দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু।
তবে শান্তিচুক্তি হলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরাইল। দেশটির নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলি সেনারা তাদের অবস্থান বজায় রাখবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা ছেড়ে যাবে না।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখল করে রাখার ইচ্ছা ইসরাইলের নেই। তবে হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না।
কাটজের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার লেবানন সফর করছেন। তার এই সফরকে চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের নতুন আশা তৈরি করলেও, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সীমান্তে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে চুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সতর্ক আশাবাদ বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।