আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের সমর্থকরা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ঘরের মাঠের ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা আঁকা টেনিস বল মাঠে ছুড়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
বৃহস্পতিবার ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে আয়ারল্যান্ড ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় দর্শকরা ফিলিস্তিনি পতাকা আঁকা টেনিস বল মাঠে নিক্ষেপ করেন। এতে রেফারি সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করে খেলোয়াড়দের কুলিং ব্রেকে পাঠান। দুই মিনিটের বেশি সময় পর আবার খেলা শুরু হয়।
প্রথমার্ধে এক ব্যক্তি ফিলিস্তিনি পতাকা জড়িয়ে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেন।
হাফটাইমে ‘স্টপ দ্য গেম’ আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ছিল গ্যাভিন বাজুনু ও ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীকী প্রতিবাদ।
ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের হয়ে দুই গোল করেন ট্রয় প্যারট। ম্যাচের ১২তম মিনিটে তিন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় প্রথম গোলটি করেন তিনি। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করে আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন প্যারট।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়ার বদলি খেলোয়াড় আলেকজান্ডার প্রাস ও মাইকেল গ্রেগরিটশ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
এদিকে, ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বেঞ্চে থাকলেও আগামী রবিবার ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবেন না।
ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের হোম ম্যাচটি সার্বিয়ার বাক্কা টোপোলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ম্যাচটি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) গত নভেম্বরেই দিয়েছিল। তবে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ভোটে ম্যাচগুলো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত মে মাসে কাতারের বিপক্ষে আভিভা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচেও একই ধরনের টেনিস বল নিক্ষেপের প্রতিবাদ হয়েছিল। ওই ঘটনায় দুইবার খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার দাবিতে আয়ারল্যান্ডে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ক্রীড়াবিদ, বিনোদন অঙ্গনের তারকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও ম্যাচ বয়কটের দাবি ওঠে।