মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর উত্তরায় অবৈধ দখল ও নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর রাস্তার ১১৭/বি নম্বর প্লট ও প্লট-সংলগ্ন গ্রিন জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তিঘর, ভাঙারির দোকান ও গ্যারেজ অপসারণ করে জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত অংশও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রাজউকের জনসংযোগ ও প্রটোকল বিভাগ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন,
মোবাইল কোর্ট অভিযানটি পরিচালিত হয় রাজউক জোন-১/১-এর আওতায়। অভিযানে যৌথ তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এবং অথরাইজড অফিসার শেখ এহসানুল ইমাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যা যা অপসারণ করা হলো,
অভিযানে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রাস্তার নির্মাণাধীন একটি ভবনে নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ২৪ নম্বর রাস্তার ১১৭/বি নম্বর প্লট এবং প্লট-সংলগ্ন গ্রিন জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তিঘর, ভাঙারির দোকান ও গ্যারেজ সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। দখলমুক্ত করা জমি পরবর্তীতে রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-০২)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ভবন মালিকের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা,
অভিযানে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রাস্তার ১০০ নম্বর প্লটে জনাব মাসুম রেজা ও অন্যান্যদের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের আংশিক নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়। ভবন মালিক আগামী এক মাসের মধ্যে নকশাবহির্ভূত বাকি অংশ নিজ দায়িত্বে অপসারণ করবেন মর্মে ৩০০ টাকার অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
রাজউকের বার্তা, অবৈধ দখল ও নির্মাণ বরদাশত নয়,
এই অভিযানের মধ্য দিয়ে রাজউক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, রাজধানীতে সরকারি জমি দখল এবং অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজউকের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত জরুরি। তবে অভিযান যেন লোক দেখানোয় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দখলমুক্ত জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে অচিরেই তা আবার দখল হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।