এক্সিম ব্যাংকের বোর্ডবাজার শাখায় গ্রাহক হয়রানি চরমে: এফডিআরের টাকা তুলতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি ভুক্তভোগী

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকার এক্সিম ব্যাংক (EXIM Bank) শাখার বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকে জমা রাখা এফডিআর (FDR)-এর ৫৭ লক্ষ টাকা তুলতে না পেরে চরম মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন নূর হাসান সরকার নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। দিনের পর দিন ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ইতোমধ্যে তিনি দুইবার হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রাহক নূর হাসান সরকার গাজীপুর মহানগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির সরকারের সন্তান। তিনি তাঁর বাড়ি ভাড়া ও ওষুধের ফার্মেসি ব্যবসার লভ্যাংশের জমানো টাকা নিরাপত্তার স্বার্থে এক্সিম ব্যাংকের বোর্ডবাজার শাখায় এফডিআর হিসেবে জমা রাখেন। বিগত কয়েক বছরে তাঁর জমাকৃত অর্থের পরিমাণ এক কোটি টাকা অতিক্রম করে।

অভিযোগ উঠেছে, উক্ত শাখার তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার মামুন, নূর হাসান সরকারের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাঁর এফডিআরের তহবিল থেকে একটি বড় অঙ্কের টাকা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ম্যানেজার মামুন চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর নূর হাসান সরকার তীব্র চেষ্টা ও ছোটাছুটি করে তাঁর অবশিষ্টাংশের কিছু টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, এখনও তাঁর অবশিষ্ট ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যাংকে আটকে রয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে আটকে থাকা ৫৭ লক্ষ টাকা উত্তোলনের জন্য প্রতিনিয়ত বোর্ডবাজার শাখায় যোগাযোগ করে যাচ্ছেন এই প্রবীণ গ্রাহক। তবে বর্তমান ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁর এই ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চরম উদাসীনতা ও অনীহা দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

ব্যাংকের এই লাগাতার হয়রানি ও মানসিক চাপে ব্যাংকে ঘুরতে ঘুরতেই দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেন নূর হাসান সরকার। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কিছুটা সুস্থ হয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) তিনি বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মোহাম্মদ মোবিন হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। তবে দীর্ঘ আলাপের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর বা সুরাহা পাননি তিনি।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে বোর্ডবাজার শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম তথা ‘দৈনিক বাংলাবাজার’ পত্রিকার প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো প্রকার কথা বলতে বা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে, কেবল নূর হাসান সরকারই নন, এক্সিম ব্যাংকের এই শাখাটির অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির শিকার আরও অসংখ্য সাধারণ গ্রাহক। ব্যাংকের এমন কার্যকলাপে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রয়োজনে তা উত্তোলনের নিশ্চয়তার জন্য মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে। কিন্তু সেই টাকা তুলতেই যদি জীবন সংকটে পড়তে হয়, তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে—এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই উদ্ভূত ও অমানবিক পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে এবং কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যে ভুক্তভোগী প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ ও জরুরি নির্দেশনা কামনা করেছেন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এই চরম হয়রানি থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে উক্ত শাখার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *