স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর সুনিবিড় হাউজিং সুইটসগেট এলাকার ডি-৬ এরিয়ায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলার ফারুক আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই চাল ও আটা বিক্রি শেষ দেখিয়ে কালোবাজারে পণ্য সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ওএমএস ডিলার ফারুক আলমের ট্রাক খালি দেখানো হয়। অথচ ওএমএসের চাল ও আটা সাধারণত বিপুলসংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ফলে দুপুর ১২টার মধ্যেই সব পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে এক বস্তা আটা এনে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন দৃশ্যও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয় এবং ওএমএসের পণ্য বিক্রির প্রকৃত হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তা অভিযোগ করে বলেন, ওএমএসের চাল ও আটা স্বল্পমূল্যে কিনতে তারা নির্ধারিত স্থানে আসেন। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পণ্য পাওয়া যায় না। আবার কখনো দুপুরের আগেই পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। তাদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং কতটুকু পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তা স্বচ্ছভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
এদিকে, ডিলার ফারুক আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও চাল ও আটা বিক্রিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিলার ফারুক আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারককারী তাহমিনার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কিছু জানি না।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি ভর্তুকি ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ওএমএসের চাল ও আটা যদি যথাযথভাবে বিতরণ করা না হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি ওএমএসের পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।