কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানায় দায়ের হওয়া চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনির কে-ব্লক এলাকায় উর্মিলা আক্তার (উর্মি) নামে এক নারীর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাসায় প্রবেশ করে ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ১টি ব্রেসলেট, ২টি চুড়ি, ৬ জোড়া কানের দুল, ৮টি আংটিসহ প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর সিএমপি পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আকবরশাহ থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। আকবরশাহ থানার ওসি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একাধিক আভিযানিক দল চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। একই সঙ্গে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুলাই পাহাড়তলী থানার নেছারিয়া মাদ্রাসা গলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাহে আলম ও মো. মনির হোসেন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ২টি চুড়ি, ৩ জোড়া কানের দুল এবং ২টি আংটি। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকবরশাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মাহে আলমের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ১২টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি যাওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।