কক্সবাজারের ৪ আসনে হাসবে কার মুখ? অপেক্ষায় লাখো মানুষ

আব্দুল গফুর:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারের চারটি আসনে ভোটযুদ্ধ শেষ হচ্ছে ১২ জানুয়ারি। এখন চলছে হিসাব-নিকাশের লড়াই। ব্যালটের বাক্সে বন্দি রায়—কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্ক এখনো মেলেনি। চকরিয়া-পেকুয়া, মহেশখালী-কুতুবদিয়া, সদর-রামু-ঈদগাঁও এবং উখিয়া-টেকনাফ—এই চার আসনে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা জানার অপেক্ষায় লাখো মানুষ।

এই নির্বাচনে কক্সবাজারের রাজনীতি ছিল বহুমাত্রিক ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কোথাও ব্যক্তি ইমেজ, কোথাও দলীয় প্রভাব, কোথাও আবার স্থানীয় ইস্যু—প্রতিটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ কাজ করেছে। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফ আসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর প্রভাব, সদর-রামু-ঈদগাঁওয়ে সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা, চকরিয়া-পেকুয়ায় পুরনো রাজনৈতিক বলয়ের পুনর্গঠন এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে চারটি আসনই ছিল উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু।

ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি, অন্তর্দ্বন্দ্ব, কেন্দ্রভিত্তিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রান্তিক উত্তেজনার অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রকাশ্য সংঘাত না থাকলেও নীরব প্রতিযোগিতা হবে নির্বাচনের তীব্র। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তের ভোট টানার কৌশল এবং ভোটার উপস্থিতি—ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট—উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যটন শিল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা, দ্বীপাঞ্চলের যোগাযোগ সংকট এবং সীমান্তজনিত চ্যালেঞ্জ—এসব ইস্যু নিয়ে আগামী দিনের সংসদ সদস্যের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের ফল শুধু চারটি আসনের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করবে না; এটি জেলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে এই চারটি আসন কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও দেখার বিষয়।

সময় যত এগোচ্ছে, তত বাড়ছে উত্তেজনা। প্রার্থীদের সমর্থকরা ইতোমধ্যে নিজেদের বিজয়ের দাবি তুলছেন, তবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। এখন একটাই প্রশ্ন—ব্যালটের রায়ে কার কপালে জয়ের মুকুট, আর কে পড়বেন পরাজয়ের ভার?

কক্সবাজারের চার আসনের শেষ হাসি কার—তার জবাব দেবে আজকের ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোট গণনাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *