নিজস্ব প্রতিনিধি: কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে খুলনার এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক রায় (বয়স…) খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্যারাসেইলিং চলাকালে একপর্যায়ে নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান শৌভিক। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিয়ানগর এলাকায় পরিচালিত কয়েকটি প্যারাসেইলিং কার্যক্রমে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকির অভাব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি রাইডারের জন্য বীমা (ইনস্যুরেন্স) চালু, নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানান তিনি। এছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফ্লাইট রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরিদ দাবি করেন, তারা প্রতিবছর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলেও চলতি অর্থবছরের অনুমোদনপত্র (কার্ড) নবায়ন হয়নি। তবে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। অনুমোদন নবায়ন ছাড়া কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মর্তুজা বলেন, প্যারাসেইলিং কার্যক্রম নির্ধারিত উচ্চতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটি সিভিল এভিয়েশন পর্যবেক্ষণ করে। দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন বর্তমানে হালনাগাদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন বা পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।