কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ওবায়দুল হাসান শিহাদ (২৪) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কক্সবাজার-ইদগাঁও মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিহাদ রামু সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার মনুরীপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিহাদ নিজের একটি ভ্যানগাড়ি চালিয়ে উত্তর দিক্কুল কামারবাড়ি এলাকা থেকে আসছিলেন। এ সময় কক্সবাজার-ইদগাঁও সড়কে চলাচলকারী ‘কক্স ট্রাভেলস’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস (নম্বর: কক্সবাজার-জ-১১-০৩৬৭) ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় শিহাদ সড়কে ছিটকে পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে বাসটি আটক করেন। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের চালককে হেফাজতে নেয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি শিহাদ পরিবারের ব্যবসায়ও নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টায় জানারঘোনা কুতুবদিয়া পাড়ায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কিছু চালকের বেপরোয়া ও অসতর্ক গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা কমছে না। স্থানীয়দের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের আরও সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধ করা যায়।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও এর চালক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।