মোঃআনজার শাহ
একদিন হয়তো বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে পর্যটক এসে বলবেন “কক্সবাজার মানেই স্বপ্নের গন্তব্য।” সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের (এমপি)। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পায়ে। লক্ষ্য একটাই কক্সবাজারকে সারা পৃথিবীর পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
যে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবে,
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত আমাদের। অথচ বিশ্বের লক্ষ লক্ষ পর্যটক মালদ্বীপ যান, থাইল্যান্ড যান, দুবাই যান। কক্সবাজারের কথা মাথায় আসে না। এই বেদনাদায়ক বাস্তবতাটি বদলে দিতেই মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের হাতে তুলে নিয়েছেন একটি সাহসী পরিকল্পনা।
তাঁর ভাষায় কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটি সারা পৃথিবীর জন্য এক অমূল্য উপহার। প্রকৃতি এখানে যা দিয়েছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা আর দৃঢ় সংকল্প।
মাস্টার প্ল্যান, একটি নতুন কক্সবাজারের নকশা,
মন্ত্রীর নেতৃত্বে তৈরি এই মাস্টার প্ল্যান কোনো সাধারণ সরকারি কাগজ নয়। এটি একটি জীবন্ত স্বপ্নের দলিল, যেখানে কক্সবাজারের প্রতিটি কোণকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আকাশপথে সমুদ্র দর্শন:
কল্পনা করুন সমুদ্রের নীল জলের উপর দিয়ে ক্যাবল কারে ভেসে যাচ্ছেন, নিচে ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা দিতে সৈকত এলাকায় চালু হবে আধুনিক “ক্যাবল কার”। পাশাপাশি “সি-প্লেন”সেবা চালু করা হবে, যাতে পর্যটকরা আকাশ থেকে কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
সমুদ্রে ভাসমান বিলাসিতা:
বিশ্বের উন্নত পর্যটন দেশগুলোর মতো কক্সবাজারেও চালু হবে “আন্তর্জাতিক মানের ক্রুজ লাইন”। সমুদ্রের বুকে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন পর্যটকরা। এটি হবে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা।
থিম পার্ক, আনন্দের এক নতুন জগৎ:
শিশু থেকে বৃদ্ধ — সবার জন্য বিশ্বমানের “থিম পার্ক “নির্মিত হবে কক্সবাজারে। পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকরা সারাদিন কাটাতে পারবেন আনন্দময় পরিবেশে।
বিশ্বমানের আবাসন ও সম্মেলন কেন্দ্র:
আন্তর্জাতিক পর্যটক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের কথা ভেবে গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এবং পরিকল্পিত রিসোর্ট জোন। বিশ্বের বড় বড় হোটেল চেইন এখানে বিনিয়োগ করবে এটাই প্রত্যাশা।
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা:
কক্সবাজারে আসা যেন আর কষ্টের না হয় সেজন্য সড়ক, রেলপথ, নৌপথ ও সমুদ্রপথে আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই পৌঁছানো যাবে স্বপ্নের কক্সবাজারে।
কউক, উন্নয়নের নীরব কারিগর,
এই বিশাল পরিকল্পনার বাস্তবায়নে মূল ভূমিকায় রয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা কউক। ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের আলোকে প্রতিষ্ঠিত এই কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভূমি জরিপ, অননুমোদিত স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, পরিবেশ সমীক্ষা সব কাজ একসঙ্গে চলছে।
অপরিকল্পিত নির্মাণ বন্ধ করা, বেআইনি স্থাপনা অপসারণ এবং সৈকত এলাকা পরিষ্কার রাখা এই কাজগুলোতে কউক ইতোমধ্যে দৃশ্যমান সাফল্য দেখিয়েছে। মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কউক এখন একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছে।
প্রকৃতি ও উন্নয়ন, দুটোই থাকবে,
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বারবার একটি কথাই বলেছেন, উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না। কক্সবাজারের পাহাড়, সমুদ্র, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই এগিয়ে যাবে পরিকল্পনা। পর্যাপ্ত বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ মাস্টার প্ল্যানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশবান্ধব পর্যটনই হবে কক্সবাজারের মূল পরিচয়।
স্থানীয় মানুষের জীবন বদলাবে,
এই পরিকল্পনা শুধু পর্যটকদের জন্য নয় এটি কক্সবাজারের লাখো মানুষের ভাগ্য বদলের দলিল। হোটেল, রিসোর্ট, থিম পার্ক, ক্রুজ লাইন এসব উদ্যোগ কক্সবাজারে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জেলে, রিকশাচালক সবাই এই উন্নয়নের সুফল পাবেন। নিম্নবিত্ত ও গৃহহীন মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানেও বিশেষ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে মাস্টার প্ল্যানে।
বিনিয়োগের জোয়ার আসছে,
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে কক্সবাজারের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেছেন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুলে গেছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্টার প্ল্যান সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
একটি প্রশ্ন, একটি উত্তর,
বাংলাদেশে পর্যটন কেন এত পিছিয়ে, এই প্রশ্নের উত্তর একটাই: পরিকল্পনার অভাব। মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এসেছেন। তাঁর হাতের এই মাস্টার প্ল্যান যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে আমাদের কক্সবাজার একদিন সত্যিই বিশ্বসেরা ছিল।
সেই দিনটির অপেক্ষায় আছে গোটা বাংলাদেশ।