নিজস্ব প্রতিবেদক : দৃশ্যমান বড় কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ি ব্যবহার ও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মইনুদ্দিন আহমদ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগটি দুদকের প্রাপ্তি শাখায় গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, স্নিগ্ধা চৌধুরীর দৃশ্যমান কোনো বড় বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বিনোদন জগতে ‘রাস্তা’ ও ‘প্রেশার কুকার’ নামে দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীর দাবি, এর কোনোটিই এখনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রে তার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সীমিত সংখ্যক বিজ্ঞাপন ও র্যাম্প শোতে অংশ নেওয়া একজন শিল্পীর পক্ষে কীভাবে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার এবং বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করা সম্ভব।
এদিকে স্নিগ্ধা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন, মাদক ব্যবসা ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্নিগ্ধা তার দামি গাড়ি নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এছাড়া বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা এবং একজন ‘প্রভাবশালী বয়ফ্রেন্ড’কে ঘিরে তার বক্তব্য নিয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্নিগ্ধা চৌধুরীর সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং তার আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
নোট: অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগকারীর বক্তব্য; তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।