কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দিতে পারেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দিল্লির পর এবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দেবীপক্ষের তৃতীয়ায় দুপুর ২টায় রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। এতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির এক নেতা। তবে মিছিলের অনুমতি ও মমতার উপস্থিতি—কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তৃণমূলের প্রকাশিত প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি এবং দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলটির ভাষ্য, বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি।

সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে ওই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও বলেছিলেন তিনি। দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে।

তৃণমূলের সাবেক রাজ্যসভার সদস্য শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রতিবাদ মিছিল হবে এবং দলনেত্রী এতে অংশ নেবেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে এবং দলটির কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই।

দুর্গাপূজার আগে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজাবাজার, সিআইটি রোড ও পার্ক সার্কাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশ অনুমতি দিলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

দিল্লিতে নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের পর কলকাতার এ কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত মিছিলে যোগ দেন কি না এবং পুলিশ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *