মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি এলপিজি গ্যাসপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং আশপাশের ঘরবাড়ি ও একটি গ্যারেজের বহু গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা যায়, সম্প্রতি চালু হওয়া এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে অবস্থিত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কর্মচারীরা বালু ও পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত নয়টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দগ্ধ ১০ জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের মধ্যে ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসপাম্প-সংলগ্ন একটি গ্যারেজে রাখা অন্তত ৩০টি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস আগুনে পুড়ে গেছে। গ্যারেজকর্মী নুরুল আলম জানান, পাম্প থেকে ছড়িয়ে আসা আগুনের তীব্রতায় একে একে ৩০টিরও বেশি গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।
বিস্ফোরণের সময় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
এদিকে কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরেছিল, যা পরে নেভানো হয়। তবে ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস থেকেই রাতের দিকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার পেছনে নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।