নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি মহিলা কওমী মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামাতের এক আবাসিক ছাত্রীকে (১০) জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার মহাতামিমের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদা মোঃ ইদ্রিস শেখ বাদী হয়ে কালিয়া কওমী মাদ্রাসা ও কালিয়া মহিলা মাদ্রাসার মহাতামিম মুফতী শরীফ শহিদুল্লাহ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে এই এজাহার দাখিল করেন। অভিযুক্ত মুফতী শরীফ শহিদুল্লাহ কালিয়া উপজেলার বাকা গ্রামের তবিবর শরীফের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় অভিযুক্ত মহাতামিম অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে মহিলা মাদ্রাসা থেকে কওমী মাদ্রাসায় ডেকে পাঠান। এ সময় ওই ছাত্রী তার সাথে আরও একজন সহপাঠীকে নিয়ে গেলে, অভিযুক্ত কৌশলে সেই সহপাঠীকে পানি কেনার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর রুমে কেউ না থাকার সুযোগে মুফতী শরীফ শহিদুল্লাহ ওই ১০ বছর বয়সী ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ঘটনার একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে দুইজন লোক রুমের ভেতর ঢুকে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিবৃত্ত হন। পরবর্তীতে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ওই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলা হয়, তুই যদি কাউকে এই কথা বলিস, তবে তোকে মেরে ফেলবো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী ভয়ে ও আতঙ্কে বাড়িতে এসে তার পরিবারকে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পারিবারিকভাবে আলোচনা শেষে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করে। এই বিষয়ে কালিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।