কালীগঞ্জে মহাসড়ক প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দাবি: হাইকোর্টের নির্দেশে আশার আলো, বললেন অ্যাড. হাবিবুর রহমান

মোঃআনজার শাহ 

ঝিনাইদহ–যশোর মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহাসড়কের দুই পাশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের দীর্ঘদিনের ক্ষতিপূরণ দাবিতে অবশেষে আইনি অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশে তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান

রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ১৪ নম্বর আদালতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে।

দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের দুই পাশে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার ওপর যে ক্ষতি সৃষ্টি হয়েছে, তার ন্যায্য ও আইনসম্মত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। এ দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-নিবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশের মাধ্যমে পূরণ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য পাওনা নিষ্পত্তি করবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

সংশ্লিষ্ট নথি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ–যশোর মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে কালীগঞ্জ উপজেলার মহাসড়কের দুই পাশের বহু ব্যবসায়ী তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আয়-উপার্জনের সুযোগ হারানোর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করছিলেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহকারী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ও আয়-উপার্জনের ক্ষতির বিষয়টি যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা, পুঁজি ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থানান্তর, আয়-উপার্জনসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতির জন্য আইনানুগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনও করা হয়।

আবেদনে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই উন্নয়নের কারণে যাঁরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণের প্রত্যাশায় থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য হাইকোর্টের এই নির্দেশ একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য পাওনা নিষ্পত্তি করবে এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

ঝিনাইদহ–যশোর মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। কালীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ক্ষতিপূরণ দাবিতে হাইকোর্টের এই নির্দেশ তাই তাঁদের জন্য শুধু একটি আইনি অগ্রগতি নয়, বরং ন্যায়সংগত পাওনা ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের নির্দেশে ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তির পথে এখন হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় কালীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *