কিশোরগঞ্জে চেতনানাশক প্রয়োগে অচেতন করে ঘরে চুরির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মনিপুর ঘাট এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় চেতনানাশকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে এক ব্যক্তিকে অচেতন করে বসতঘর থেকে ২০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। মধ্যরাতে ঘরের টিন কেটে ও জানালা দিয়ে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম নাদিম। তিনি একই গ্রামের সোহেলের ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মো. খুকন মিয়ার ছেলে অন্তু মিয়া জানান, কয়েক দিন আগে গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় নাদিম ঘরে প্রবেশ করে তাঁর নাক-মুখে অজ্ঞাত রাসায়নিক বা চেতনানাশকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি তাঁর।

অন্তু মিয়ার দাবি, ঘরে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, তিনি অচেতন অবস্থায় থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পকেট থেকে ওয়ারড্রপের চাবি নিয়ে সেটি খুলে ভেতরে রাখা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরে জানালা দিয়ে বেরিয়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত যুবক মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে এসব বিষয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী অন্তু মিয়া বলেন, “আমার ঘরে ঢুকে এভাবে চুরি এবং আমাকে অচেতন করার ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এদিকে এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাদিমের বক্তব্য এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দায়ের ও পুলিশের তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *