কিশোরগঞ্জে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আসামির বাড়িতে চুরির অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী তন্না আক্তারের বিরুদ্ধে আসামির বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি সত্য নাকি মামলার জের ধরে সাজানো—এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার দিগদাই ইউনিয়নের সিংধা গ্রামের মো. দিন ইসলাম ওরফে দীনুর ছেলে মো. রফিক (৩৫)-এর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন একই এলাকার তন্না আক্তার। মামলাটি নারী ও শিশু পিটিশন নম্বর-৬৭/২৬।

অভিযোগে তন্না আক্তার উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। সংসারের জীবিকা নির্বাহের জন্য তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে স্বামীর ভাই মো. রফিক তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় রফিক ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করতেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদীর দাবি, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে মারধর করে পায়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে পাঠান বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর ২২ জুন ২০২৬ তারিখে তন্না আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মো. রফিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাড়াইল থানাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, আসামিপক্ষের লোকজন তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, আসামির বাড়িতে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটিকে পূর্বের মামলার জের হিসেবে দেখছেন। তবে চুরির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, পূর্বের মামলা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে মো. বাচ্চু মেম্বার, মো. হেলাল মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, মো. কাঞ্চন মিয়া, আব্দুল ছাত্তার, মো. তরুণ মিয়া, মো. মনির হোসেন, মো. হাবুল মিয়া, মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, মো. জিন্নাত আলীসহ স্থানীয় কয়েকজন এবং কল্পনা আক্তার, আসমা আক্তার, হালিমা খাতুন, ফাতেমা খাতুন ও কুলসুম আক্তারসহ স্থানীয় নারীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপার, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *