কেন্দুয়ায় আলাল উদ্দিন ও তার লোকজনের দাপটে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আমতলা-রোড়াইলবাড়ি ইউনিয়নের নীলাম্বরখিলা গ্রামে মো. আলাল উদ্দিন ও তার লোকজনের দাপটে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, সালিশ এড়িয়ে যাওয়া, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলাম্বরখিলা গ্রামের মৃত আসাব আলীর ছেলে মো. আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একই গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ হালেমা আক্তারের জমি জোরপূর্বক ও বেআইনিভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

বিষয়টি সমাধানের জন্য হালেমা আক্তার কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নিলেও অভিযোগ রয়েছে, আলাল উদ্দিন ও তার লোকজন সালিশে উপস্থিত না হয়ে তা এড়িয়ে যান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে হালেমা আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা আদালতে আলাল উদ্দিনসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে জানা গেছে। মামলার পর আসামিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও তার পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন হালেমা আক্তার। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হালেমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিচার চাই। গ্রামবাসীর সহযোগিতা চাই এবং আইনের আশ্রয় চাই। আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাল উদ্দিন বা তার পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *