কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র ও পরবর্তীতে অভিযানে আরও দুটি ধামা দা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাননীয় পুলিশ কমিশনার, সিএমপি চট্টগ্রামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এবং সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন)-এর তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নুরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) খালিদ হাসান তন্ময়, ইনচার্জ, বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ি এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা।
গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে কোতোয়ালী থানাধীন ইস্পাহানী মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ফলমণ্ডী ও নিউ মার্কেট এলাকায় আগত ব্যবসায়ী ও পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়েছে।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল ওরফে চাকমা রুবেল (৪২), আক্তার হোসেন ওরফে সুমন (৪৫), মো. আজাদ হোসেন (২৯) এবং নুর আলম (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে।
তল্লাশিকালে চারজনের কাছ থেকেই পৃথকভাবে কালো রঙের ফোল্ডিং স্টিলের চাকু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চাকুগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৬ ইঞ্চি এবং ধারালো অংশ ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে জব্দতালিকার মাধ্যমে এসব অস্ত্র জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদরঘাট থানাধীন তার বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি ১৫.৫ ইঞ্চি এবং অপরটি ১৭ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি লোহার তৈরি ধামা দা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নম্বর-২২, তারিখ ১৪/০৭/২০২৬, ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের নিয়ে কোতোয়ালী থানা এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে এবং চলন্ত বাসে ছিনতাই করে আসছিল।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।