স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ত্রিমোহনী সংলগ্ন পানির পাম্প গলি ও গ্রীন সিটি গলিতে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি মিরাজুর রহমান ও রহমত উল্লাহ পৃথকভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খিলগাঁও ত্রিমোহনী এলাকার পানির পাম্প গলিতে অবস্থিত দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সাইনবোর্ড বিপরীত প, পানির পাম্প রোডের গলির মুখে লোহার গেট-সংলগ্ন স্থানে রহমত উল্লাহ রাজউকের নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক বা চারপাশে খালি জায়গা রাখা হয়নি এবং অনুমোদিত নকশাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
অন্যদিকে লোহার গেট-সংলগ্ন গ্রীন সিটি গলিতে মিরাজুর রহমান নির্মাণ করছেন প্রায় ১০তলাবিশিষ্ট একটি ভবন। স্থানীয়দের দাবি, এই ভবন নির্মাণেও রাজউকের বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি, যা ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রহমত উল্লাহ বলেন, “রাজউকের অনুমতি ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ করা হয় না। রাজউকের কর্মকর্তারা প্রায়ই আমাদের নির্মাণাধীন ভবনে আসেন এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলেন।”
মিরাজুর রহমান বলেন, “আমরা রাজউকের আইন ও বিধি মেনেই ভবন নির্মাণ করছি। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে না।”
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন দুটি ভবনেই রাজউকের ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মৌলিক বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যে, নির্মাণকাজে নির্ধারিত খালি জায়গা রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অনুমোদিত নকশা অনুসরণের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজউকের জোন-৬-এর একজন অনুমোদিত (অথরাইজড) কর্মকর্তা বলেন, “রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘন করে কেউ পার পাবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, রাজধানীতে অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ শুধু নগর পরিকল্পনাকেই ব্যাহত করছে না, বরং জননিরাপত্তার জন্যও হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় ধরনের হুমকি। দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজউক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা, নির্ধারিত উচ্চতা, সেটব্যাক এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে জরিমানা, নির্মাণকাজ বন্ধ কিংবা অবৈধ অংশ অপসারণের মতো ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।