মোঃআনজার শাহ
বাংলাদেশ দেশের আবাসন ও অবকাঠামো খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা উন্মোচিত হলো আজ। রাজধানীর সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা এবং নির্মাণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক,
রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বৈঠকে উভয় পক্ষ আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বৈঠকে বাংলাদেশের আবাসন ও গণপূর্ত খাতে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই নির্মাণ ব্যবস্থায় চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আগ্রহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য,
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, “দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে বাংলাদেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার আবাসন খাতকে আধুনিক, টেকসই ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চীনা প্রতিনিধিদলের আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি,
চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নেও স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষত নগর পরিকল্পনা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ মিলে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়,
এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও একটি নতুন মাত্রা দিল। দুই দেশের মধ্যে আবাসন ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরও বৈঠকে উপস্থিত থেকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন।
“উন্নয়নের পথে বন্ধুর হাত বাংলাদেশ ও চীনের অংশীদারিত্ব হোক আরও মজবুত, আরও ফলপ্রসূ।”