মোঃআনজার শাহ
দেশের প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের দুয়ারে এবার পৌঁছে যাচ্ছে উন্নত চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিনের সীমিত সক্ষমতার গণ্ডি পেরিয়ে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত করা হচ্ছে ১০১ শয্যায়। শুধু তাই নয়, দেশের নতুন গঠিত ১৩টি উপজেলায় প্রথমবারের মতো গড়ে উঠবে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনে এই সুখবর নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রস্তাবে সানুগ্রহ সম্মতি দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এখন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় পদ সৃজনের প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
উপ-সচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। এর অনুলিপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ দেশের সকল সিভিল সার্জনের দপ্তরে, যাতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে যেতে পারে।
চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, এই কর্মসূচির ছোঁয়া লেগেছে দেশের প্রতিটি বিভাগেই। ঢাকা বিভাগের ফরিদপুরের মধুখালী ও নরসিংদীর পলাশ; ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণার খালিয়াজুরী; টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার ও মির্জাপুর; চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবানের আলীকদম, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি; চাঁদপুরের হাইমচর ও মতলব (উত্তর); কুমিল্লার বরুড়া, মেঘনা ও মনোহরগঞ্জ; ফেনীর ফুলগাজী; খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লক্ষ্মীছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি; লক্ষ্মীপুরের রামগতি; রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কাউখালী — এই পার্বত্য ও উপকূলীয় জনপদগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার প্রসার হবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার নন্দীগ্রাম, নাটোরের বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম, রাজশাহীর পবা ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী; রংপুর বিভাগের দিনাজপুরের কাহারোল ও নবাবগঞ্জ এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর; খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরার আশাশুনি ও মাগুরার শ্রীপুর; বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর দুমকী এবং পিরোজপুরের কাউখালী ও ইন্দুরকানী; সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, মৌলভীবাজারের রাজনগর, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও শাল্লা এবং সিলেট সদরের বালাগঞ্জ ও কানাইঘাট সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যেগুলোর বর্তমান শয্যা সংখ্যা ৩১টি করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামো বৃদ্ধিই নয়, শয্যা সংখ্যা তিনগুণ বাড়লে জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহেও আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে জটিল রোগ কিংবা দুর্ঘটনায় আহত রোগীকেও আর দৌড়াতে হবে না দূরের জেলা শহরে নিজ উপজেলার হাসপাতালেই মিলবে ভরসার আশ্রয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এটি হয়ে উঠতে পারে এক নতুন মাইলফলক।