ঘাটাইলে সাগরদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ

মোঃ হাসান আলী:

গ্রামের মানুষের সেবা নেওয়ার একমাত্র ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিক। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে জ্বর, সর্দি, কাশি, চুলকানির মতো অসুখ দেখা দিলেই ফ্রি চিকিৎসা, পরামর্শ এবং ফ্রি ঔষধ নিতে সকলে ছুটে আসেন কমিউনিটি ক্লিনিকে। প্রচলিত গ্রামীণ কথা— সরকারি ঔষধগুলো এক নম্বর। আর তাই বাস্তব জীবনেও বহু পরিবারের ছোটখাটো অসুস্থতার কারণে এই ক্লিনিকগুলো থেকে ঔষধ নিয়ে থাকেন।

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলায় ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, প্রতিটি ক্লিনিক থেকে সেবা প্রদান করা হয়। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সেবা পেতে ছুটে যান বহু মানুষ। কাঙ্ক্ষিত সেবা পেয়ে খুশিও তাঁরা। কিন্তু সাগরদিঘী ইউনিয়নের অন্তর্গত বেতুয়াপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কংক্রিট স্পলিং দেখা দিয়েছে, পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে মেরামত করা প্রয়োজন। এমন অবস্থায়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা ফাতেমা ফেরদৌসী।

সাগরদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা এক বৃদ্ধা মহিলা স্বামীকে হারিয়েছেন ১৭ বছর আগে। দুই ছেলে নিয়ে টানাপোড়নের সংসারে দু’বেলা ভাত খেয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন। শরীরে অসুস্থতা বোধ হলেই চলে আসেন ক্লিনিকে, যদিও বৃদ্ধা নিজেই বলেন এখানে হাসপাতাল থাকায় প্রাণে বেঁচে রয়েছেন।

ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা (সিএইচসিপি) ফাতেমা ফেরদৌসী বলেন, “ক্লিনিকটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। এখানে প্রতিদিন মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি।”

এই বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাঈম বলেন, “ঘাটাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে আসছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিক বহু আগে নির্মিত, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মতো ৩টির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে! বাকি গুলো পর্যায়ক্রমে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *