চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি–বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে -ডঃ শাহাদাত

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি–বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে -ডঃ শাহাদা:

কামরুল

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি–বান্ধব ও গতিশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অ্যাপসটির উদ্বোধনের সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে জরুরি সেবা, মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা একটি প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অফিসার ড্যাশবোর্ড, ওয়ার্ডভিত্তিক হিট ম্যাপ এবং স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা দ্রুত বুঝতে পারব কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিকদের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার বাবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। অ্যাপসটি বাস্তবায়নে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাত থেকে অর্থায়ন করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করেছে ভেনটো টেক।
কথা বললেন চসিক নির্বাচন প্রসঙ্গেও : ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি বারবার বলছি, স্থানীয় সরকারের মেয়র নির্বাচন যেন চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি বলেছি, চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচন দিন। আমি চাই একটা গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন হোক, যেখানে সবার অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন গণতন্ত্রের ধারা ফিরে এসেছে, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রেও আমি সেটিই চাই। জনগণ তাদের ভোট যাকে খুশি তাকে দেওয়ার সুযোগ পাক। আমি আমার ৪০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় গণতন্ত্রের চর্চাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছি।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে এখন যে সেবা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরো বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্যই নির্বাচনটা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি যদি চাই ২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে পারব, সে বৈধতা কোর্ট আমাকে দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনেরতফসিল ঘোষণা করা হলে আমি পদত্যাগ করব। আমি চাই একটি নির্বাচন।
মেয়র বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তোলেন কেন আমি মেয়রের চেয়ারে বসলাম। আমি তাদের বলতে চাই, আমি কোনো জোর করে বা অবৈধভাবে এখানে বসিনি। আমি জুডিশিয়াল অর্ডারের বৈধতা নিয়ে এসেছি। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কারো যদি কিছু বলার থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তারা রিট করতে পারেন। আমি যদি এই বিচারিক আদেশ না বুঝতাম, তবে আমি রাষ্ট্র, আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করতাম।
অ্যাপস নিয়ে যা বললেন : ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে একটি গৌরবময় ও যুগান্তকারী দিন। আমরা এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে বাস করছি, যেখানে নাগরিক সেবা হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া বিলাসিতা নয়, সময়ের অপরিহার্য দাবি। সেই দাবি পূরণ করতেই ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের যাত্রা শুরু হলো। এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, ময়লা আবর্জনা, সড়কবাতি, নর্দমাসহ ১০টি ক্যাটাগরির যেকোনো সমস্যা ছবি তুলে লোকেশনসহ সরাসরি সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে পারবেন। শুধু অভিযোগ নয়, অভিযোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, চলমান নাকি সমাধান হয়েছে, তাও লাইভ ট্র্যাক করা যাবে।
মেয়র বলেন, কোনো শহরকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শতভাগ সুন্দর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ সেই অংশগ্রহণের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। আমি চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিককে অনুরোধ করব, গুগল প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং নিজের শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিককে সেবা পাওয়ার জন্য অফিসে ঘুরতে হবে না, বরং প্রযুক্তিই নাগরিকের কাছে সেবা পৌঁছে দেবে। এটাই স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার।
মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, মেয়রের দূরদর্শী চিন্তার ফল হিসেবেই ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের জন্ম হয়েছে। নাগরিকরা শুধু অভিযোগ নয়, উন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শ, নতুন অবকাঠামোর প্রস্তাব, পার্ক, খেলার মাঠ, ফুট ওভারব্রিজ কিংবা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিষয়ে মতামতও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিক মতামত গ্রহণের জন্য এতে পোলিং সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, নাগরিকরা ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাঙ, ওয়ার্ড অফিসের সনদসহ বিভিন্ন সেবার তথ্য ও অনলাইন আবেদন সুবিধাও এই অ্যাপে পাবেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তথ্য, হাসপাতালের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক তথ্য ধাপে ধাপে এতে যুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *