চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের নতুন স্থাপত্য নকশা উপস্থাপন: ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে ১১ তলা আধুনিক কমপ্লেক্স

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ জিয়া হল’ ভেঙে সেই জায়গায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ তলা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অডিটোরিয়ামে হলটির নতুন স্থাপত্য নকশার আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা ও এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ননউক)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাশিকুল ইসলাম রাজিব।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি।

বক্তব্যের শুরুতেই জাসাস কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুল ইসলাম সানি বলেন, “চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হল নারায়ণগঞ্জবাসীর আবেগ, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই হলের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এর প্রতিটি ইটে আমার এবং নারায়ণগঞ্জের জাতীয়তাবাদী শক্তির অক্লান্ত পরিশ্রম লেগে আছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বহু চেষ্টা করেও এই হলের নাম মুছে ফেলতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যখন এই হলের নতুন বহুতল আধুনিক নকশা উপস্থাপিত হচ্ছে, তখন আমার চেয়ে আনন্দিত বোধহয় কেউ নেই। জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই জিয়া হলটি নারায়ণগঞ্জের একটি অনন্য স্মারক। দীর্ঘদিন এটি অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। আল্লাহর রহমতে আজ আমরা এর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করতে পেরেছি। ১১ তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটি নারায়ণগঞ্জ শহরকে নতুন রূপ দেবে।”

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “১২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই আধুনিক কমপ্লেক্সটির মাটির নিচেই থাকবে দুই তলা বেজমেন্ট, যেখানে প্রায় ৫০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ভবনে আন্তর্জাতিক মানের নাট্যশালা, লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ, আর্ট গ্যালারি, কমিউনিটি সেন্টার ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মহড়া কক্ষের সুবিধা রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে এই আধুনিক স্থাপত্যের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশিকুল ইসলাম রাজিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ দূর করে চাষাঢ়ার এই কেন্দ্রস্থলটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে।”

অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলীবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জাসাসের নেতাকর্মী এবং নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে নতুন জিয়া হলের বহুতল ও নান্দনিক স্থাপত্য নকশা এবং ত্রিমাত্রিক (3D) মডেল সকলের সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *