ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ছাতক উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিলন মিয়া, ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক কুমার মোহন্ত, উপজেলা প্রকৌশলী আমির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকূল চন্দ্র দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুর রহমান বাবুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পটভূমি, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা এবং দেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এ দিবসের প্রকৃত ইতিহাস, পটভূমি ও তাৎপর্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। তাই দিবসটির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, আলোচনা, প্রচার-প্রচারণা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হানিফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া, হাজী নিজাম উদ্দিন বুলি প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ছাতক ও কৈতক হাসপাতালে রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ছাতকে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়।