জয়পুরহাটে পঙ্গু পিতাকে জীবন্ত করব দিতে ঘরেই খোড়া হলো গর্ত

 

মোঃ মোকাররম হোসাইন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় শয্যাশায়ী এক পঙ্গু বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের ভেতর গভীর গর্ত খোঁড়ার অভিযোগে উঠেছে ছেলে মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, মাদকাসক্ত ছেলে পরিকল্পিতভাবে প্রায় সাত ফুট গভীর একটি গর্ত খুঁড়ে বাবাকে সেখানে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি।
ঘটনাটি বুধবার উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। এরপর থেকে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার এমএ ডিগ্রি অর্জনের পরও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ফুচকা বিক্রি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
জানাগেছে, বড় ছেলে মোস্তাকিম প্রথমদিকে বাবার দেখাশোনা করলেও পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার অর্থের জন্য প্রায়ই বাবাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।
শয্যাশায়ী আব্দুস সালামের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে ছেলের অস্বাভাবিক চলাফেরা তার সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছেলে একাধিকবার ঘরের ভেতরে একা প্রবেশ করে মাটি সরিয়ে বাইরে আনছিল। বুধবার দুপুরে চাচাতো ভাই রাজুকে ডেকে ঘরটি খুলে দেখতে বললে এক কোণে প্রায় পাঁচ ফুট প্রশস্ত ও সাত ফুট গভীর গর্ত, বস্তাভর্তি মাটি এবং কাদা দেখতে পান তারা। এরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে গ্রামবাসী মোস্তাকিমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে থানায় অভিযোগ করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে তার মা ও বড় বোন তাকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহমেদ বলেন, ঘরের ভেতরের গর্ত ও আশপাশের আলামত দেখে আমাদের সন্দেহ হয়েছে, এটি স্বাভাবিক কোনো কাজ নয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে।
অন্যদিকে মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাই মাদকাসক্ত, কিন্তু বাবাকে হত্যার জন্য গর্ত খুঁড়েছে—এ কথা ঠিক নয়। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সালাম বলেন, আমি এখন নিজের জীবন নিয়েই আতঙ্কে আছি। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের নির্যাতন সহ্য করেছি। এখন আমার নিরাপত্তা চাই।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আব্দুল করিম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *