নিজস্ব প্রতিবেদক:
শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।
এ মামলায় বুধবার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শুরু হয়। তবে জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি জবানবন্দি রোববার উপস্থাপন করবেন তিনি। তার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। পরে শুরু হবে যুক্তিতর্ক।
তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।
তামিম আরও বলেন, নিজের জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্তকালে কীভাবে কাজ করেছেন, কার কার জবানবন্দি নিয়েছেন, কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং কী কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন, সেসবের বর্ণনা দিয়েছেন।
এ মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসান কীভাবে একজন ‘কিলার’ হয়ে উঠেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা উঠে এসেছে বলে দাবি করেন প্রসিকিউটর।
এ ছাড়া র্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে সে বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।