আব্দুর রশিদ:
মধুমাস জৈষ্ঠ্য আসার আগেই সাতক্ষীরার বাজারে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু পাকা আম। ভৌগোলিক অবস্থান ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এ অঞ্চলের আম আগে পাকে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ থেকে গাছ থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
জেলার বৃহৎ আমের হাট সুলতানপুর বড়বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সকাল থেকেই গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, বৈশাখী, গোলাপখাস ও শিরশিরাইসহ নানা জাতের আমে ভরে উঠেছে বাজার। মৌসুমের শুরুতেই আম উঠায় চাহিদা যেমন বেশি, তেমনি দামও রয়েছে তুলনামূলক চড়া।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদিত প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, বাগান ও বাজারের আড়ত থেকে অনলাইন মাধ্যমেও ব্যাপক পরিমাণে আম বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা ভিড় জমাচ্ছেন সাতক্ষীরার আমের হাটগুলোতে।
রপ্তানির ক্ষেত্রেও রয়েছে সুখবর। এ বছর ১০০ মেট্রিক টনের বেশি আম যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হবে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার আমচাষি নাসিরুদ্দিন, একজন বাগান মালিক, বলেন, “আমার বাগানে গতবারের চেয়ে এবার অনেক বেশি ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হবো।” স্থানীয় কৃষকরাও বিশেষভাবে ক্যামিক্যাল ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা হবে।
সব মিলিয়ে, মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার আম ঘিরে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।