স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) শহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, মাসোহারা আদায় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গাড়ির মালিক ও ড্রাইভারদের অভিযোগ, তার ‘গুড বাণিজ্য’ ও কথিত মাসোহারা আদায়ের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশেপাশে কোনো কার্যকর রেকার না থাকলেও রেকার ব্যবহারের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে কোনো গাড়ি রেকার দিয়ে সরানো হয়নি বলেও দাবি করেন একাধিক চালক। তাদের অভিযোগ, এই খাতে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার সঠিক হিসাব বা সরকারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ এলাকায় চলাচল করা বেশিরভাগ সিএনজির নম্বর প্লেট নেই। এসব অবৈধ ও অর্ধনম্বরবিহীন যানবাহন ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত একটি চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে টিআই শহিদুলের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এছাড়া ‘জননী কুরিয়ার সার্ভিস’-এর শত শত গাড়ি রাস্তার ওপর অবৈধভাবে পার্কিং করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যেকটি গাড়ি থেকে টিআই শহিদুল মাসোহারার নামে অর্থ আদায় করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত গ্যারেজে রাখার পরিবর্তে রাস্তার ওপর গ্যারেজ বানিয়ে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় পরিবেশ ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এদিকে, ইঞ্জিনচালিত খোলা ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন উল্টো পথে চলাচল করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক চালক জানান, তারা প্রশ্ন করলে বলা হয়—“টিআই শহিদুল জানেন,” এমন উত্তর দিয়ে দায় এড়ানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাফিক কনস্টেবল অভিযোগ করেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ড্রাইভারদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি কেউ কিছু বললে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা। এতে মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, কদমতলী এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার আড়ালে একটি অনিয়ম ও দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ সিএনজি, নম্বরবিহীন যানবাহন এবং রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি রেকার সেবা না থাকা সত্ত্বেও রেকার খাতে অর্থ আদায় এবং নির্দিষ্ট কিছু পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ ড্রাইভার ও গাড়ির মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিআই শহিদুল বলেন, “এগুলো সবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।