ট্রাম্প তার পোষা প্রাণীদের চুপ রাখতে বলেছিলেন, না শুনলে শিক্ষা দেবে ইরান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত’ করে রেখেছে ইসরায়েল—ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

তিনি ইসরায়েলের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পোষা প্রাণী’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প তাদের চুপ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা যদি সেই নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে ইরান কঠোর জবাব দেবে।

বুধবার (১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো কাঁচের মতো স্বচ্ছ। এই চুক্তির শর্তগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেল আবিবের (ইসরায়েল) পোষা প্রাণীদের মুখ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি তাদের মনিবের কথা না শোনে, তাহলে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কোনো ধরনের হুমকি বা হামলার চেষ্টা করলে তার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন। তার এই মন্তব্যের পরই ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দুই সপ্তাহ আগে উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। ওই সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও কড়া বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *