মোঃআনজার শাহ
গুলশান, বারিধারা ও বনানীর লেকগুলো দিন দিন দূষিত হয়ে পড়ছে। টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে মিশছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, বিপন্ন হচ্ছে নগরজীবন। এই সংকট মোকাবেলায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব আয়তনের প্লটে Sewage Treatment Plant (STP) বা পয়ঃশোধনাগার স্থাপন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে STP-এর নকশা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান।
আজ ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টায় রাজউকের অডিটোরিয়ামে **”নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও Sewage Treatment Plant (STP) বাস্তবায়ন”** শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। এ ছাড়া গুলশান, বারিধারা ও বনানী সোসাইটির সভাপতিবৃন্দ এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দশ প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন,
সেমিনারে মোট দশটি প্রতিষ্ঠান STP-সংক্রান্ত তাদের প্রযুক্তি ও সমাধান উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো Sigma Group of Companies, Ellipse Engineering and Construction Ltd., Biotech Innovations Ltd., Bangladesh Green Building Academy, Daiki Axis Bangladesh, Acumen Engineering Limited, Center for Engineering and Technical Assistance (CETA), Research Innovation Commercialization, Clima Energy EPC এবং Pivot Engineering Ltd.। উপস্থাপনায় STP-এর বিভিন্ন প্রকারভেদ, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, উপযোগিতা ও সম্ভাব্য ব্যয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা,
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভবন মালিকরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে STP স্থাপন করতে পারবেন। তবে যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে স্থাপন করা বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও জানান, গুলশান, বারিধারা ও বনানীর লেকদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী তিন ধাপে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। লেকে টয়লেটজনিত বর্জ্য প্রবাহ বন্ধের কার্যকর সমাধান হিসেবে STP স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে লেকভিত্তিক আঞ্চলিক STP স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
চেয়ারম্যান জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজউক ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ মেলার আয়োজন করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে চেয়ারম্যান অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক নগর গড়তে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।