ঢাকা ওয়াসায় বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তন ঘিরে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা ওয়াসায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণিতে পানির বিল নির্ধারণের ক্যাটাগরি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের পানির সংযোগের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হচ্ছে। আবার একবার আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা সংযোগ পুনরায় বাণিজ্যিক শ্রেণিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।

প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। এতে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

ক্যাটাগরি পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা ওয়াসার পানির বিল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে কোনো সংযোগের প্রকৃত ব্যবহার, নিবন্ধিত ক্যাটাগরি এবং বিলিং ব্যবস্থায় সংরক্ষিত তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কোনো গ্রাহকের সংযোগের শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অর্থের বিনিময়ে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের সংযোগ আবাসিক শ্রেণিতে পরিবর্তন করার পর আবার বাণিজ্যিক শ্রেণিতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে গ্রাহকদের বিল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর সংযোগের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে বেশি হারে বিল নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এক গ্রাহকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদনে একজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ওই গ্রাহকের দাবি, তাঁর পানির সংযোগ দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে ছিল। সংযোগটি আবাসিক শ্রেণিতে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

গ্রাহকের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে তাঁর পানির বিল আবাসিক ক্যাটাগরিতে আসতে শুরু করে। এতে তিনি মনে করেছিলেন, সংযোগটির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী মাসেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই গ্রাহকের দাবি, আগস্ট মাসে তাঁর কোনো আবেদন ছাড়াই সংযোগটির বিলিং ক্যাটাগরি আবার বাণিজ্যিক করে দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুনরায় আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই সংযোগের ক্যাটাগরি অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তনের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিলিং রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। জুলাই ও আগস্ট মাসের বিল, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের তারিখ, পরিবর্তনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হলে ঘটনাটির প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব হবে।

তবে একজন গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগটি যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি।

রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর নেতৃত্ব বা প্রশ্রয়ে ক্যাটাগরি পরিবর্তনসংক্রান্ত কথিত অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর কম্পিউটার অপারেটর মাহাদীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বিলিং ব্যবস্থায় তথ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনুমোদন প্রদান এবং বিলিং সিস্টেম পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের বক্তব্যে অর্থ সংগ্রহের দাবি

প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিং সহকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাটাগরি পরিবর্তনসংক্রান্ত অর্থের লেনদেনে যুক্ত হন।

সূত্রটির বক্তব্য অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দিন শেষে অর্থের হিসাব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ডিজিটাল রেকর্ড ও দাপ্তরিক নথি পরীক্ষা করা জরুরি। বিলিং সিস্টেমে কোন ব্যবহারকারী কখন প্রবেশ করেছেন, কোন সংযোগের তথ্য পরিবর্তন করেছেন, পরিবর্তনের জন্য কী অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল কি না—এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

একই সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেন, অর্থ গ্রহণের রসিদ, যোগাযোগের রেকর্ড কিংবা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

আইন ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিবেদনে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, পূর্বের বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইন ও ঢাকা ওয়াসার প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং অনুমোদনের ধাপ যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সংযোগগুলোর আবেদনপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন, বকেয়া পরিশোধের তথ্য এবং অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করলে নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে যেসব সংযোগের ক্যাটাগরি অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পরিবর্তনের কারণ, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদনের ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং অনিয়মের মাধ্যমে পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা সহজ হবে।

রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগেরও হিসাব প্রয়োজন

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্যাটাগরি পরিবর্তনসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তবে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ, কোন সময়ের হিসাবের ভিত্তিতে এ দাবি করা হয়েছে এবং কতটি সংযোগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়নি।

রাজস্ব ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংযোগগুলোর আগের ও পরের বিল, পানির ব্যবহার, নির্ধারিত ক্যাটাগরি এবং প্রযোজ্য বিলের হার তুলনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো সংযোগ ভুল ক্যাটাগরিতে থাকার কারণে কম বা বেশি বিল আদায় হয়েছে কি না, তা নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তি ও পরিসরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সময়ের তথ্য সংগ্রহ করে সংযোগভিত্তিক যাচাই করা হলে অনিয়মের প্রকৃত ব্যাপ্তি এবং আর্থিক প্রভাব নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

গ্রাহক হয়রানি বন্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

পানির বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। কোনো সংযোগের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হলে তার কারণ, অনুমোদন এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ গ্রাহককে জানানো হলে ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে। একই সঙ্গে অননুমোদিত পরিবর্তন শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত বিলিং রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু গ্রাহক হয়রানির বিষয় নয়, বরং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বক্তব্য নেওয়া এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর তদন্ত, বিলিং সিস্টেমের পরিবর্তনসংক্রান্ত রেকর্ড পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়া এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, তদন্তের উদ্যোগ এবং যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি সেবায় গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখতে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঢাকা ওয়াসার বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *