স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এর আগেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট—ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ—নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনা জোরদার হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা থাকা প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উদ্যমী নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি এবং সংগঠনকে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে ঘিরে এই আলোচনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এই ইউনিটকে দলীয় আন্দোলনের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং দলে দীর্ঘদিন ধরে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন—তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব হিসেবে কয়েকজন নেতার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আলমগীর হোসেন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আলমগীর হোসেন বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পরে ডেমরা থানা যুবদলের দীর্ঘদিনের সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর পরিচয় দিয়েছেন বলে সহকর্মীরা মনে করেন।
জানা যায়, তার বিরুদ্ধে প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে ধারাবাহিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন; এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে শুরু করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমি দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি, বহুবার কারাবরণ করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু দলের আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্ররাজনীতি, যুবরাজনীতি এবং বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন কাজ করে আমি এই এলাকাকে ভালোভাবে চিনি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে, তাহলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়ে এই ইউনিটকে সবচেয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিটে রূপান্তর করা সম্ভব।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দও মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাদের মতে, এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যিনি ঢাকার স্থানীয় বাস্তবতা বোঝেন এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সংগঠনকে গতিশীল করতে পারবেন।
একজন মহানগর নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। সামনে জাতীয় কাউন্সিল, তার আগে ঢাকার ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। নেতৃত্ব নির্বাচনে ত্যাগ, দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পুনর্গঠন দলটির সামগ্রিক সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে উঠলে মাঠপর্যায়ে দলের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
সর্বোপরি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন নেতৃত্বের ওপর—যারা একদিকে অভিজ্ঞতার আলোকে দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কর্মমুখী সংগঠন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।