‘দিদি পাশে আছে’, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারে সরব মমতা

কলকাতা প্রতিনিধি

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেফতার হওয়া নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘তোমাদের দিদি তোমাদের পাশে আছে, আজও, চিরকাল।’ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভয় কিংবা চাপের মুখে সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

মমতার অভিযোগ, একটি প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের গ্রেফতার করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি লেখেন, ‘বড় বড় তথাকথিত জাতীয়তাবাদীরা এখন নিজের দেশে তিরঙ্গা পতাকা ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেটাই নাকি শান্তিভঙ্গ করার মতো কাজ।’

অভিষেকের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এর আগে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের প্রবেশদ্বার টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন সিজেপির কয়েকজন নেতা। এ সময় তাদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল। এ ঘটনায় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা অজিঙ্ক শিণ্ডেকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বুধবার এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়। এভাবে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর মতে, ছাত্রছাত্রী, তরুণ ও সাংবাদিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছেন। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ের পার্থক্য থাকলেও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তাদের লক্ষ্য এক। যন্তর মন্তর দেশের মানুষের প্রতিবাদের জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জাতীয় পতাকা ওড়ানো, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার এবং প্রতিবাদের স্থান নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *