স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নক্সাকার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ শফিউল্লাহ বাবুকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই আদেশ অনুযায়ী, শফিউল্লাহ বাবু ৪ আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার এই কর্মকাণ্ডে রাজউকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০১৩-এর বিধি ৩৭(খ) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং বিধি ৩৭(গ) অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলা নং-০৪/২০২৫ রুজু করা হয় এবং ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেননি এবং পরবর্তীতে কোনো জবাবও দাখিল করেননি। এছাড়া ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছাও প্রকাশ না করায় বিষয়টি তদন্তের জন্য রাজউকের উপপরিচালক (প্রশাসন-২) বিধান রায়কে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, শফিউল্লাহ বাবু ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়। পরে বিধিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও তিনি তারও কোনো জবাব দেননি। সবশেষে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পর্যালোচনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০১৩-এর বিধি ৩৮(১)-এর দফা (খ) ও (ই) অনুযায়ী মোঃ শফিউল্লাহ বাবুর বিরুদ্ধে “চাকরি হতে অপসারণ” দণ্ড আরোপ করা হয়। রাজউক সূত্র জানায়, জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।