মোঃআনজার শাহ
( উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে উদবাতুল বারী আবু,সিটি করপোরেশনে ইউসুফ মোল্লা টিপু)
প্রতিটি শহরেরই একটি স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন কখনো প্রশস্ত সড়কের, কখনো জলাবদ্ধতামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরের, আবার কখনো এমন এক প্রশাসনের যেখানে উন্নয়ন আর জনকল্যাণ একই স্রোতে প্রবাহিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এসে পড়ে কিছু মানুষের কাঁধে, যাঁরা সময়ের প্রয়োজন বুঝে নেতৃত্ব দেন, সংকটকালে সাহস দেখান এবং মানুষের প্রত্যাশাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কুমিল্লা আজ এমনই এক নতুন সময়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। নগর পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ও পরিচিত দুই মুখ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে উদবাতুল বারী আবু। এই দুই নিয়োগকে ঘিরে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা ও আলোচনার আবহ।
ছাত্ররাজনীতি থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে: ইউসুফ মোল্লা টিপু
ইউসুফ মোল্লা টিপুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়নকালেই তিনি ছাত্রদলের নেতৃত্বে উঠে আসেন। এরপর ধাপে ধাপে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল, যুবদল এবং সর্বশেষ কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই তাঁর নেতৃত্বের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক জীবনে তিনি শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য। করোনা মহামারির কঠিন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ‘বিবেক’ নামের সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা এসব কর্মকাণ্ড তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত করে তুলেছে।
নতুন প্রতিষ্ঠান, বড় চ্যালেঞ্জ: উদবাতুল বারী আবু
অন্যদিকে, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া উদবাতুল বারী আবুর সামনে রয়েছে আরও বৃহৎ এক চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সম্প্রসারিত কুমিল্লা নগরকে পরিকল্পিত রূপ দেওয়া, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখন যুক্ত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বের সঙ্গে।
ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত উদবাতুল বারী আবু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা শহর ছাত্রদল, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর গভীর জানাশোনা নতুন এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন সম্ভাবনা
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নগর উন্নয়নে সূচিত হয়েছে এক নতুন দিগন্তের। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন সংকট, যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই বাস্তবতার আলোকে গঠিত এই কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের কুমিল্লাকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরে রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
একই সময়ে নগর প্রশাসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অভিজ্ঞ দুই নেতৃত্বের উপস্থিতিকে কুমিল্লার জন্য এক সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। একজন নগরসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে, অন্যজন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার নেতৃত্বে এই সমন্বয় কার্যকর হলে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়িত হতে পারে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পরিকল্পনা।
মানুষকে কেন্দ্রে রেখেই প্রকৃত উন্নয়ন
উন্নয়ন কেবল ইট, পাথর, কংক্রিট কিংবা বহুতল ভবনের নাম নয়। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে মানুষ; যখন একটি শহর তার নাগরিকদের জন্য আরও নিরাপদ, আরও সুন্দর, আরও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই কুমিল্লার মানুষ আজ আশাবাদী। তাঁদের প্রত্যাশা দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতৃত্ব অভিজ্ঞতা, সততা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন এক কুমিল্লা গড়ে তুলবেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠবে উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কুমিল্লা আজ দাঁড়িয়ে নতুন সম্ভাবনার মোড়ে। সময়ই বলে দেবে এই সম্ভাবনা কত দূর এগোবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন উন্নয়নের, সুশাসনের এবং একটি আধুনিক কুমিল্লা নির্মাণের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এখন ইউসুফ মোল্লা টিপু ও উদবাতুল বারী আবুর কাঁধে।