বিশেষ প্রতিনিধি:
দুর্নীতির মামলার আসামি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নিশ্চিত করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাঁর সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি। এর আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধানের সম্পদের উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মামলা করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
ফ্ল্যাট ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ
দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে শেখ আব্দুল হান্নানের সম্পদের ওপর আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর আদালত তাঁর দুটি ফ্ল্যাট ক্রোক এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেন।
আদালতের এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের ওপর নির্দিষ্ট আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্পদ যাতে হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে তদন্তের বাইরে চলে না যায়, সে ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করা হয়ে থাকে।
শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিষয়ে দুদক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁর সম্পদের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিবারসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এর আগে শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ছাড়া তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব মামলার পৃথক অভিযোগ ও বর্তমান আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার ধারাবাহিকতায় তাঁর সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সর্বশেষ কাতারে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য।
কাতারে গ্রেপ্তারের পর শেখ আব্দুল হান্নানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলামের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাতারে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।